প্রাচূর্যও শূন্যতার আরেক নাম৷
বাড়ি, গাড়ি, গহনা, সম্পদ কিংবা খ্যাতি
ধীরে ধীরে জড়িয়ে ধরে মানুষকে,
স্বপ্নগুলোকে করে তোলে দৃশ্যমান;
মনে হয়, এই তো সুখ, এই তো প্রাপ্তি।
তবু এক অদেখা ভার
নিঃশব্দে বসে থাকে বুকের ভেতর,
হাসির আড়ালে জমে ওঠে
অকথিত এক ক্লান্তি।
সব কিছু পেতে পেতে
মানুষ মাঝেমধ্যে থমকে যায়;
অতিরিক্ত আলো চোখে লাগে,
ঝলকানির ভেতর হারিয়ে যায় দিকনির্দেশ।
তখন সে থামার চেষ্টা করে,
নিজের ভেতর একটু তাকায়,
যেখানে কোনো অলংকার নেই,
শুধু একা আত্মা
তার সত্যের মুখোমুখি।
এখানে ভেসে আসে এক নীরব আহ্বান;
কোলাহল পেরিয়ে,
অভিমান ডিঙিয়ে,
সব প্রাপ্তির গর্ব ছাড়িয়ে,
ডেকে নেয় তাকে এক অচেনা শান্তির দিকে।
নামাজে পূর্ণতা;
যেখানে মাথা নত হলেই
অহংকার ভেঙে পড়ে মাটির মতো,
আর হৃদয় খুঁজে পায়
তার আসল ঠিকানা।
আল্লাহর ধ্যানে ডুবে গেলে,
সময়ের গতি দুনিয়ার হিসাবে থাকে না;
প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে ওঠে গভীর,
চাওয়াগুলো ঝরে পড়ে নীরবে,
অস্থিরতা গলে যায় অদৃশ্য স্রোতে।
দুনিয়ার কয়েকটি মিনিট,
কিন্তু সেই ধ্যানের গভীরে
সময় তার অর্থ হারায়।
নামাজি ধীরে ধীরে
অন্য এক জগতে প্রবেশ করে,
যেখানে মৃত্যু কোনো সমাপ্তি নয়, বরং দরজা;
আর দরজার ওপারে
অসীম এক উপস্থিতি৷
আল্লাহ,
আল্লাহ,
আর আল্লাহ।
স্রষ্টা যখন হৃদয় প্রশান্ত করেন,
তখন সব তথ্য, সব প্রশ্ন, সব দ্বিধা
নীরব নদীর মতো হয়ে যায়;
বয়ে চলে, কিন্তু শব্দহীন,
গভীর, কিন্তু অশান্তিহীন।
মানুষ মাঝে মাঝে বুঝে
প্রাচুর্যের ভিড়ে সে ছিল একা,
আর এই নীরবতার ভেতরেই
সে খুঁজে পেয়েছে
তার চূড়ান্ত সঙ্গ,
তার সত্য,
তার শান্তি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন